সংবাদ সম্মেলন
সিনথিয়া সিএনজি স্টেশনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
- আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ১২:৫১:৫৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ১২:৫১:৫৩ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
শহরের মল্লিকপুরে অবস্থিত সিনথিয়া সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন স্টেশন-এর বকেয়া পাওনা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ইঞ্জিনিয়ার হোসাইন আহমদ জুয়েল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পানসি রেস্টুরেন্টের ২য় তলায় লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন কর্মরত থাকাকালীন সিএনজি স্টেশনের স্বত্বাধিকারী সজীব রঞ্জন দাশ (সল্টু)-এর বকেয়া গ্যাস বিল, পরিচালনা ব্যয় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট মেটাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ঋণ ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত উক্ত স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন হোসাইন আহমদ জুয়েল। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গনঅভ্যুত্থানের পর সিএনজি স্টেশনের মালিক সজীব রঞ্জন দাশ দেশত্যাগ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের মাধ্যমে কিস্তিতে বকেয়া টাকা পরিশোধের সুযোগ নিয়ে স্টেশনটি পুনারায় চালু করা হয়।
জুয়েল দাবি করেন, বিদেশে অবস্থানরত মালিক সজীব রঞ্জন দাশের অনুরোধে স্টেশন সচল রাখা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি পরিচিতজনদের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ধার হিসেবে আনেন, যা মালিকের নির্দেশনায় বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্টেশন সচল রাখার স্বার্থে তিনি ও পাওনাদাররা যৌথভাবে আরও একাধিক চুক্তি পরিচালনা করেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শহরের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে তিন দফায় মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়। চুক্তিমতে উক্ত বিনিয়োগকারীকে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও স্টেশনের অর্জিত আয় থেকে মালিক সজীব রঞ্জন টাকা সরিয়ে নেওয়ায় বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
জুয়েল আরও জানান, পাওনাদারদের ধারাবাহিক চাপ এবং নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান এবং সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
চাকরি ছাড়ার পরও পাওনাদারদের তাগাদা অব্যাহত থাকায় মানসিক চাপে পড়ে জুয়েল এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এমতাবস্থায়, পাওনাদারদের দাবির মুখে গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় পাওনাদারদের ডেকে সিএনজি স্টেশনটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং চাবি সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করে। পরদিন সকালে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে সালিশের মাধ্যমে দেনা পাওনা নিষ্পত্তির আশ্বাসে স্টেশনটির তালা খুলে দেওয়া হয় এবং তা পুনরায় চালু করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এই ইঞ্জিনিয়ার অভিযোগ করে বলেন, মালিক সজীব রঞ্জন দাশের গাফিলতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে সাধারণ গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং কর্মচারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তিনি বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সজীব রঞ্জন দাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ